ইরান যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি ছাড়ালো ১ কোটি ৭২ লাখ ব্যারেল 

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশের সম্মিলিত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অক্টোবরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশগুলোর সম্মিলিত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১ কোটি ৭২ লাখ ৭৩ হাজার ব্যারেলে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়। তাদের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫২ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ এক মাসে দৈনিক রপ্তানি বেড়েছে ২৬ লাখ ২১ হাজার ব্যারেল।

এ বছরের মে মাসে সম্মিলিত রপ্তানি নেমে এসেছিল দৈনিক ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেলে। সেখান থেকে অক্টোবরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৬৬ শতাংশ। এতে যুদ্ধের মধ্যে আঞ্চলিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্যাংকারট্র্যাকার্সের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান।

হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি, তবু বাড়ছে রপ্তানি

মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি বাড়লেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে তীব্র হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইরানের তেল রপ্তানি শূন্য, অন্যদের প্রবাহ বাড়ছে

জাহাজ ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী আরেক সংস্থা ভরটেক্সার পৃথক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে অক্টোবরে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে ছিল। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য উৎপাদক দেশের তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় ৮১ শতাংশের বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের প্রভাব সব উৎপাদক দেশের ওপর সমানভাবে পড়েনি। ইরানের তেল রপ্তানি অবরোধের কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে পুনরুদ্ধার করেছে।

তবে রপ্তানি বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে জ্বালানি পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। হামলার ঝুঁকি, নৌপথের নিরাপত্তা এবং অবরোধের পরিস্থিতি এখনো আঞ্চলিক তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত