মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)–এর বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার দাবি করেছে কুখ্যাত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী শাইনি হান্টার্স। দাবিটির পর ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। তবে হ্যাকারদের প্রকাশ করা সব তথ্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
শাইনি হান্টার্স মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাদের ডার্ক ওয়েবভিত্তিক সাইটে দাবি করে, তারা এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা এবং সংস্থাটিতে চাকরির জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, চুরি করা তথ্যের পরিমাণ দুই টেরাবাইটেরও বেশি।
এফবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, FBIjobs.gov–কে প্রভাবিত করা অননুমোদিত কার্যক্রমের দাবি সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।
কী ধরনের তথ্য চুরির দাবি
শাইনি হান্টার্সের দাবি অনুযায়ী, চুরি করা তথ্যের মধ্যে এফবিআই কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা নমুনা তথ্যে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য বা স্বামী-স্ত্রীর তথ্যও রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা একটি নমুনায় এফবিআই কর্মকর্তাদের নাম, বাসার ঠিকানা, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, দায়িত্ব বা কর্মস্থল এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার দাবি দেখা গেছে। তবে রয়টার্স এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
৪০৪ মিডিয়ার পর্যালোচনায় হ্যাকারদের দেওয়া প্রায় ৫ হাজার ব্যক্তির একটি নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইটে বিঘ্ন
ঘটনার সঙ্গে এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইট FBIjobs.gov–এর সাম্প্রতিক সমস্যারও যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওয়েবসাইটটি এবং এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট আবেদনকারীদের পোর্টাল—দুটিই সাময়িকভাবে অপ্রাপ্য ছিল। তবে ওয়েবসাইটে বিঘ্ন ঘটলেই যে হ্যাকারদের পুরো দাবিটি সত্য প্রমাণিত হয়, এমন নয়।
শাইনি হান্টার্স দাবি করেছে, এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে তাদের সাইবার হামলা চালানোর একটি কারণ হলো ২০২৬ সালের মে মাসে এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তা। ওই সতর্কবার্তায় গোষ্ঠীটির সাইবার হামলার কৌশল সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল এবং মুক্তিপণ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এফবিআই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সত্যিই বড় পরিসরে চুরি হয়ে থাকলে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাসার ঠিকানা, পরিবারের তথ্য বা কর্মস্থল প্রকাশ পেলে তাদের লক্ষ্য করে হয়রানি, ভয় দেখানো বা অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও মূল্যবান হতে পারে। কারণ কর্মকর্তাদের পরিচয়, পারিবারিক যোগাযোগ ও কর্মসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক হামলা বা পরিচয় জালিয়াতির চেষ্টা চালানো সম্ভব হতে পারে।
তবে এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং হ্যাকারদের দাবির মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। এখন পর্যন্ত এফবিআই যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে শাইনি হান্টার্সের দাবি করা পুরো দুই টেরাবাইট তথ্য চুরি হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।
শাইনি হান্টার্সের পরিচিতি
শাইনি হান্টার্স একটি পরিচিত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী, যারা বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য চুরি করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে নিরাপত্তা গবেষকেরা জানিয়েছেন। ২০২৬ সালেও গোষ্ঠীটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের তথ্য চুরির দাবি করেছে।
তাই এফবিআই–সংক্রান্ত সর্বশেষ দাবিটি এখন মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হ্যাকারদের প্রকাশ করা তথ্যের পরিমাণ, উৎস এবং এফবিআইয়ের কতগুলো সিস্টেম প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত হয়েছে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এ মুহূর্তে এফবিআইয়ের তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে, শাইনি হান্টার্সের দাবি করা ব্যাপক তথ্য চুরির ঘটনা কতটা সত্য এবং এর প্রকৃত পরিধি কতটা।
প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের নিয়োগ ও পদায়নে রোডম্যাপ
জবি ক্যাফেটেরিয়ায় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের
এবার জবাব দেওয়ার পালা পেজেশকিয়ানের