ইরানের খাইবারশেকান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা হুথিদের

ইরানের তৈরি খাইবারশেকান সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত কিছু অংশ ইয়েমেনে উৎপাদনের চেষ্টা করছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে তাদের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (সিএআর)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের জব্দ করা চারটি কনটেইনারে পাওয়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খাইবারশেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব চালানে ক্ষেপণাস্ত্রের কাঠামো ও রকেট মোটরের যন্ত্রাংশ ছাড়াও কাঁচামাল, উৎপাদনযন্ত্র এবং পরীক্ষার সরঞ্জাম ছিল। সিএআর-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খাইবারশেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এক হাজার কিলোমিটারের বেশি। ফলে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে হুতিদের দূরপাল্লার আঘাত হানার সামর্থ্য বাড়তে পারে।

যেসব যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে
সিএআর জব্দ করা চালানগুলোতে খাইবারশেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত সাত ধরনের যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ স্থিতিশীল রাখার পাখনার মূল কাঠামো, রকেট মোটরের পেছনের আবরণ ও নজল সংযুক্ত অংশ এবং মোটর চালু করার ইগনাইটার। গবেষণা সংস্থাটির মতে, এসব উপাদান, উৎপাদনযন্ত্র ও পরীক্ষার সরঞ্জাম একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রস্তুতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু যন্ত্রাংশ জব্দ হওয়ার ভিত্তিতে হুতিরা সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসূত্রের ইঙ্গিত
চালানের সঙ্গে থাকা পরিবহনসংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ ছিল, কিছু যন্ত্রে তৈরি ধাতব অংশ চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে নথিতে দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সিএআর। যন্ত্রাংশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগসূত্রও নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে এসব যন্ত্রাংশের প্রকৃত উৎপাদক, সরবরাহের পথ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো সীমিত।

ইরানের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা
সিএআর-এর মূল্যায়নে, জব্দ করা চালানের উপাদানগুলো থেকে ধারণা করা যায়, হুতিরা ইরান-সংশ্লিষ্ট সরবরাহ নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে তাদের ইরান-সংশ্লিষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে। তবে ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, উৎপাদন অবকাঠামো ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হুতিদের কতটা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, জব্দ করা উপাদানগুলো কেবল মেরামত বা সংযোজনের কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল, নাকি স্থানীয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লে ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আপাতত সিএআর-এর অনুসন্ধান অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও সম্ভাব্য উৎপাদন-প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়; পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রমাণ নয়।