গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও মানুষের মৃত্যু, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা বিশ্বশান্তির প্রশ্নটিকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—দুই নেতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামরিক কৌশল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে। তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় কি পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনবে? নাকি তাদের পরেও যুদ্ধের জন্য দায়ী রাজনৈতিক কাঠামো, সামরিক জোট, ভূখণ্ডগত বিরোধ ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতা টিকে থাকবে?
বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিদায় শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেটিই শান্তির নিশ্চয়তা নয়। যুদ্ধ বন্ধের জন্য নেতৃত্বের সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর কূটনীতি, জবাবদিহি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংঘাতের মূল কারণগুলোর রাজনৈতিক সমাধান।
গাজায় যুদ্ধবিরতি, শান্তি শুধু একটি ঘোষণা
ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্যের অন্যতম বড় দাবি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আর মানুষের নিরাপদ জীবন ফিরে পাওয়া এক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার এক বছর পরও গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর বাস্তবায়ন আটকে আছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের জীবন এখনো ধ্বংসস্তূপ, অস্থায়ী আশ্রয়, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সংকটের মধ্যে আটকে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুদ্ধবিরতি যদি মানুষের জীবন রক্ষা করতে না পারে, পুনর্গঠন শুরু করতে না পারে এবং ভবিষ্যৎ হামলার আশঙ্কা দূর করতে না পারে, তাহলে তাকে কতটা স্থায়ী শান্তি বলা যায়?
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় জিম্মি মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন এবং গাজা পুনর্গঠনের মতো বিষয় রয়েছে। কিন্তু এসব প্রশ্নে পক্ষগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিটি বিষয়ই শান্তি প্রক্রিয়ার সামনে বড় বাধা। অর্থাৎ, কাগজে শান্তি পরিকল্পনা থাকলেই মাঠপর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না। তার জন্য চুক্তি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।
গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের মধ্যেও টানাপোড়েন রয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা পুনর্গঠন কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নেতানিয়াহু সরকারের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত ও গাজায় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে অনড় অবস্থান এ অচলাবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এখানেই শান্তির রাজনীতির মৌলিক সংকট। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিত্র রাষ্ট্রের সরকারকে প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে রাজি করাতে পারছেন কি-না, সেটিই আসল পরীক্ষা। নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দেয়। ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বাস্তব রাজনৈতিক উদ্বেগ। কিন্তু সেই নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জীবন, রাজনৈতিক অধিকার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনকে অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে রাখা হলে শান্তির ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। যে শান্তিতে মানুষের ঘর ফেরার নিশ্চয়তা নেই, যে চুক্তিতে পুনর্গঠনের পথ বন্ধ, যে ব্যবস্থায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু থামে না; সেই শান্তি শেষ পর্যন্ত কতটা টেকসই?
ইরান যুদ্ধ: সামরিক শক্তি কি কূটনীতির বিকল্প?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ৮ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালাবে না; তার দাবি ছিল, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার পথ, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ তখনো অমীমাংসিত ছিল।
১৪ অক্টোবর রয়টার্স জানায়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানে আগাম হামলার পক্ষে নন বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘটনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে: যুদ্ধ ও শান্তি দুটিই অনেক সময় অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নির্বাচনী হিসাব এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভের জন্যই তিনি যুদ্ধ চালাচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। প্রশ্ন তোলা জরুরি, কিন্তু প্রশ্নকে প্রমাণের বিকল্প বানানো যাবে না। বরং দেখতে হবে, সামরিক অভিযান ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করছে কি-না, কূটনীতির সুযোগ কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য কে দিচ্ছে।
অস্ত্রের বাজারে লাভ, মানুষের জীবনে ক্ষতি
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরেকটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের সময় অস্ত্রের চাহিদা বাড়ে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা বাজেট এবং অস্ত্র আমদানিকারক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক যুদ্ধের বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক কাঠামোর অংশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ২০২১-২০২৫ সময়ে বিশ্বের প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৬-২০২০ সময়ের তুলনায় ২০২১-২০২৫ সময়ে এসব অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তরের পরিমাণ ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানিতে দেশটির অংশ দাঁড়ায় ৪২ শতাংশ। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর অস্ত্র আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান যুদ্ধ ও সামরিক প্রতিযোগিতার অর্থনৈতিক মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে বলেই কোনো নির্দিষ্ট নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ বাধিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। অস্ত্র কেনার পেছনে প্রতিরক্ষা, প্রতিরোধ, পুরোনো সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবু প্রশ্ন থেকে যায়- অস্ত্র প্রতিযোগিতা যখন বাড়ে, তখন কূটনীতি ও সংঘাত প্রতিরোধে বিনিয়োগ কি একই গুরুত্ব পায়? যুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর বদলে সামরিক প্রস্তুতি যদি ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তাহলে শান্তির জায়গা কোথায়? যুদ্ধের ব্যবসায় লাভের হিসাব করা সহজ; কিন্তু ধ্বংস হওয়া বাড়ি, অনাথ শিশু, বাস্তুচ্যুত পরিবার ও হারানো জীবনের মূল্য অর্থের অঙ্কে মাপা যায় না।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পর কি সব বদলে যাবে?
দুই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলালেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান হবে, এমন ধারণা অতিসরলীকরণ। কারণ সংঘাতের পেছনে রয়েছে বহু দশকের ভূখণ্ডগত বিরোধ, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অধিকার-সংক্রান্ত প্রশ্ন, হামাসের ভূমিকা, ইরান-ইসরায়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক সামরিক জোট এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর স্বার্থ।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত এসব সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা অবশ্যই বিচার করতে হবে। তাদের সরকার যদি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে বাধা দেয়, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় কিংবা কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের বদলে সামরিক চাপকে প্রধান হাতিয়ার করে, তাহলে তার রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রয়োজন। কিন্তু তাদের উত্তরসূরিরা একই নিরাপত্তা নীতি, একই সামরিক অগ্রাধিকার এবং একই রাজনৈতিক সমীকরণ বজায় রাখলে নেতৃত্বের পরিবর্তনেও সংঘাতের কাঠামো অক্ষত থাকতে পারে।
বিপরীতে, বর্তমান নেতৃত্ব ক্ষমতায় থেকেও যদি কার্যকর চুক্তি বাস্তবায়ন, সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোয়, তাহলে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অতএব, শান্তির প্রশ্নটি শুধু কে ক্ষমতায় থাকবেন, তা নয়; ক্ষমতায় থেকে কী নীতি অনুসরণ করবেন, কোন চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ থাকবেন, সেটিই মূল বিবেচ্য।
শান্তির জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর চাপ
যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ, আঞ্চলিক শক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রভাবশালী দেশকে শুধু বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
গাজার ক্ষেত্রে জরুরি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্গঠনকে রাজনৈতিক দর-কষাকষির বাইরে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হবে। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সামরিক উত্তেজনা কমানো, আলোচনার পথ খোলা রাখা, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা-উদ্বেগ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা। সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিকল্প নয়।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো রাষ্ট্র মিত্র বলে তার কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবে, এমন ধারণা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ব্যক্তি বদল নয়, নীতির পরিবর্তনই আসল
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লে পৃথিবীতে শান্তি ফিরবে কি-না, এর সরল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর নেই। তবে তাদের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত যে যুদ্ধ ও শান্তির গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যারা যুদ্ধবিরতিকে প্রচারের সাফল্য নয়, মানুষের জীবন রক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে দেখবে; সামরিক বিজয়ের দাবি নয়, স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবে; আর কৌশলগত স্বার্থের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবে।
পৃথিবীকে শান্ত করতে শুধু দুজন নেতার বিদায় যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যেখানে শক্তিধর রাষ্ট্রও নিজের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি করবে, অস্ত্রের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শান্তির কূটনীতিতে বিনিয়োগ করবে এবং যুদ্ধের শিকার মানুষের জীবনকে ভূরাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে বেশি মূল্য দেবে। কারণ, শান্তি কোনো নেতার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড নয়; এটি মানুষের অধিকার। আর সেই অধিকার রক্ষার পরীক্ষা বক্তৃতায় নয়; যুদ্ধ থামানো, জীবন বাঁচানো এবং ন্যায়সংগত সমাধান প্রতিষ্ঠার বাস্তব পদক্ষেপে।
সূত্র: এপি, রয়টার্স ও এসআইপিআরআই