হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিমের লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। চিঠিতে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও তাঁকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি কালাশনিকভ রাইফেল হাতে নিয়ে ইহুদিদের গুলি করার ইচ্ছার কথা লেখা রয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজা যুদ্ধের শুরুতে লেখা বলে দাবি করা চিঠিটি প্রকাশ করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গাজায় অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি সেনারা চিঠিটি উদ্ধার করেন। সিনওয়ারের মৃত্যুর দুই বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া অনুবাদ অনুযায়ী, বাবাকে লেখা চিঠিতে ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, তিনি বাবাকে খুব মিস করেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরতে চান। বাবাকে বিজয়ী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের পর তিনি কালাশনিকভ হাতে নিয়ে ইহুদিদের গুলি করার ইচ্ছার কথাও লেখেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অবসর সময়ে তিনি কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে পিস্তল, ট্যাংক ও কালাশনিকভের মডেল তৈরি করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং বাবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।
আইডিএফের প্রকাশিত চিঠির সঙ্গে কয়েকটি আঁকা ছবিও রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ছবিগুলোতে অস্ত্র, ট্যাংক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের চিত্র দেখা যায়। কয়েকটি ছবিতে গাজা ও ইসরায়েলের সীমান্তের কাছাকাছি ট্যাংক এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য আঁকা হয়েছে বলে বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আইডিএফের দাবি, চিঠি ও ছবিগুলো গাজায় হামাসের মতাদর্শের প্রভাব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঘৃণা ও সহিংসতার ধারণা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে। তবে চিঠিটির বক্তব্য ও এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত; প্রকাশিত ব্যাখ্যাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর।
ইয়াহিয়া সিনওয়ার গাজায় হামাসের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালে সংগঠনটির সামগ্রিক নেতৃত্বেও ছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাঁকে দায়ী করে আসছিল ইসরায়েল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজার রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে তিনি নিহত হন।
সিনওয়ারের ছেলের চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে আইডিএফ হামাসের আদর্শ ও গাজার শিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, চিঠিতে বাবাকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রার্থনার মতো ব্যক্তিগত অনুভূতিও রয়েছে।
গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই চিঠিকে ঘিরে আলোচনার ক্ষেত্রেও তাই শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সংঘাতের মধ্যে শিশুদের মানসিক জগত ও পারিবারিক বাস্তবতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।