যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে যুদ্ধে ঠেলছেন নেতানিয়াহু: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার দাবি, নিজের কারাবাস এড়াতেই নেতানিয়াহু এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন। ওয়াশিংটনকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্কও করেছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আরাঘচি লেখেন, ‘কারাগার থেকে বাঁচতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন।’ তার অভিযোগ, এর পরিণতি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কী হতে পারে, তা নিয়ে নেতানিয়াহু যথেষ্ট ভাবছেন না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘গতবার আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’

আরাঘচির এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে নিয়ে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইরানের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েল যদি ‘ভুল নেতা’ নির্বাচন করে, যার মধ্যে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য যে কেউ পড়বেন—তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কাজটি করতে হতে পারে। তবে তিনি নিজে তা করতে আগ্রহী নন বলেও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবেই আরাঘচি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওয়াশিংটন আবার সামরিক সংঘাতে জড়ালে তেহরানও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশটিতে একাধিক দুর্নীতির মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ- নিজের বিচার এড়াতেই নেতানিয়াহু যুদ্ধের পথ বেছে নিতে চাইছেন, এটি তার রাজনৈতিক বক্তব্য; অভিযোগটির পক্ষে তিনি ওই পোস্টে আলাদা কোনো প্রমাণ দেননি। ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হচ্ছে। নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলোও তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা সামনে এলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর সংঘাত আবার শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক হুমকি পাশাপাশি চলছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং নেতানিয়াহুর প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের পর আরাঘচির বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হবে কি-না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। আরাঘচির বক্তব্য মূলত তেহরানের সতর্কবার্তা, নতুন করে হামলা হলে ইরানও পাল্টা জবাব দেবে।