পরের আঘাত হবে আরও বিধ্বংসী: আলী আবদোল্লাহি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগের চেয়ে ভিন্ন ও আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। তিনি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি বলেন, অতীতের সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাত, ইরানকে বিভক্ত করা এবং দেশটিকে ধ্বংস করার স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জনের পরিবর্তে এখন তারাই নিজেদের পতনের মুখোমুখি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবদোল্লাহির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্ষম হতো, তাহলে এত দিনে সেগুলো কার্যকর করত। কিন্তু ইরান এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, জনগণ, কর্মকর্তারা এবং সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ়তা বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে। একই পরীক্ষার ফল আগে থেকেই জানা থাকার পরও তা পুনরাবৃত্তি করা ভুল হবে।

ইরানের সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের উদ্দেশে আরও বলেন, তাঁরা যদি আবার ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আগের সংঘাতগুলোর জবাবের মতো হবে না; বরং তা আরও কঠোর হবে।

বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন আবদোল্লাহি। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সমাজ এবং ইসরায়েল-অধিকৃত ভূখণ্ডের বাসিন্দারা নিজেদের নেতাদের গুরুতর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত।

তবে নেতাদের সক্ষমতা নিয়ে তাঁর এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপরও তারা এমন সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

‘আমরা অধীর আগ্রহে তোমাদের বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি’—প্রতিপক্ষের উদ্দেশে এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ইরানের সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরবর্তী আঘাতের গর্জন আরও কাছ থেকে শোনা যাবে, তা হবে আরও বিধ্বংসী এবং প্রতিহত করা অসম্ভব হবে।

তবে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু, সময় কিংবা সামরিক কৌশল সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন না করলে শিগগিরই সামরিক অভিযান চূড়ান্ত করার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।

এ অবস্থায় তেহরানের সামরিক নেতৃত্বের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নতুন কোনো সামরিক অভিযান বা পাল্টা হামলার বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন