ভারতের দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০০৬ সালে বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষার্থী সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ) পুনরায় চালু করা। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও এর ফলে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর শিক্ষার্থী সংসদটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভী অভিযোগ করেছেন, ঘটনার আগের দিন কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত করেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে শিক্ষার্থী সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ১২ অক্টোবর থেকে। বুধবার (২৪ অক্টোবর) বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) অভিযোগ করে, অনশনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো উসকানি ছাড়াই অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেয়ালে ভারতবিরোধী স্লোগান দেখা যাওয়ার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্লোগানগুলো জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থী সংসদ না থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। ২১ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি দেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। চিঠিতে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী সংসদ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষার্থীদের অধিকারসংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের জন্য লিংডো কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন, প্রশাসনের বক্তব্য এবং ক্যাম্পাসে স্লোগান ঘিরে বিতর্ক সব মিলিয়ে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাকার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।