নিকি মিনাজকে নিয়ে ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্য, পরে চাইলেন ক্ষমা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জনপ্রিয় মার্কিন র‍্যাপার নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মিশিগানে এক সমাবেশে দেওয়া তার এ মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তবে প্রসঙ্গের বাইরে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করে পরে ক্ষমা চান ট্রাম্প।

২৫ অক্টোবর পোর্ট হুরনের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিকি মিনাজের আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন সহজে চোখ এড়ানোর মতো নয়। এ সময় তিনি র‍্যাপারকে উঠে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

ট্রাম্পের মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ থেকে সরে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি আবার মূল বিষয়ে ফিরে যাবেন। এরপর নিকি মিনাজের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তার মন্তব্যে মিনাজ অপমানিত হয়েছেন কি-না, তা তিনি জানেন না। তবে তারা মিনাজকে ভালোবাসেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ তারকা-সমর্থকদের একজন হিসেবে পরিচিত নিকি মিনাজ ওই সমাবেশে তার পাশেই ছিলেন। তারা এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে পোর্ট হুরনে যান।

ট্রাম্পের ‘নম্বর ওয়ান ভক্ত’ নিকি মিনাজ

ট্রাম্পকে নিয়ে মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন কয়েক মাস আগেই তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন নিকি মিনাজ। গত ২৮ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে শিশুদের জন্য প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ হিসাব-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে মিনাজ নিজেকে ট্রাম্পের ‘নম্বর ওয়ান ভক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রতি তার সমর্থন বদলাবে না।

মিনাজ আরও বলেন, তাকে নিয়ে সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্য তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না; বরং এসব বিষয় ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন আরও বাড়িয়ে দেয়। ট্রাম্পের সমর্থকদের সঙ্গে মিলে তাকে কথিত অপপ্রচার বা পরিকল্পিত সমালোচনার মাধ্যমে হেনস্তা করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন মিনাজ। একসময় ট্রাম্পের সমালোচনা করলেও পরে তার অবস্থানে পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক সময়ে মিনাজ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রশংসা করে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন।

রিপাবলিকান সিনেটরকে নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প

নিকি মিনাজকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে চলতি অক্টোবরের শুরুতে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এক সমাবেশে হাস্টেডের শরীর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তার পশ্চাৎদেশের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। এ ধরনের মন্তব্য সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে করেন না বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। বিষয়টি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।

মিশিগানের সমাবেশে মিনাজকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে ট্রাম্প আগের ঘটনাটির প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, কোনো পুরুষের ক্ষেত্রে আগে এমনটি করেননি; নারীদের ক্ষেত্রে করেছেন কি-না, সে বিষয়ে মজা করে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে আগের মন্তব্যগুলোকে কৌতুক হিসেবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়।

সমাবেশের পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মিনাজের প্রশংসার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। রসিকতা করে তিনি ইঙ্গিত দেন, মিনাজ ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হতে পারেন। ট্রাম্পের প্রচার ও রাজনৈতিক বার্তা প্রচারকারী অ্যাকাউন্ট ‘ট্রাম্প ওয়ার রুম’ থেকেও এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে