জ্বালানি সংকট নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পিএম

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়টি সামনে এনে ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছেন।

স্টিভেন বার্টলেটের পডকাস্ট দ্য ডায়েরি অব আ সিইও-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ এতই নগণ্য যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারদরে কোনো প্রভাব ফেলে না। এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য বলে আখ্যা দেন।

জেলেনস্কি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্প এতটাই উদ্বিগ্ন হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো কেন বিদেশে জ্বালানি রপ্তানি করছে? তার বক্তব্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি বন্ধ করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাব থেকে মনোযোগ সরিয়ে বারবার ইউক্রেনকে দায়ী করা হচ্ছে এবং তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুশ ডিজেল কেনার বিষয়ে তার সমঝোতা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ওয়াশিংটন রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপকে কঠিন শীতের মুখে পড়তে হতে পারে। সূত্র: আরব নিউজ

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত