নিজের দল লিকুদ পার্টি দেশের সর্ববৃহৎ দল এবং ডানপন্থী জোট নির্বাচনে এক ‘নির্ধারক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জেরুজালেমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি একটি ‘জাতীয় ডানপন্থী সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান এবং চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যা দেখেছি তা হলো লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল এবং কেউ আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে বিষয়টি স্পষ্ট তাহলো ডানপন্থী ব্লকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবং এটি একটি নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা।’
নেতানিয়াহু এক ঐক্যবদ্ধ ‘সিয়োনিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ওপর নির্ভর না করার তাগিদ দেন। তিনি সেই দলগুলোকে ‘আমাদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে’ বলে বর্ণনা করেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের অবমূল্যায়ন ও শত্রুদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
বিরোধী দলগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠনে সচেষ্ট বলে অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি কীভাবে তাদের সঙ্গে কোনো জোট গঠন করতে পারেন? এটি লজ্জাজনক এবং এটি হওয়া উচিত নয়।’
বক্তব্যের শেষ অংশে নেতানিয়াহু দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘ইসরায়েল চিরকাল টিকে থাকবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ইসরায়েলের সমস্ত নাগরিককে বলতে চাই। হ্যাঁ, আমরা আমাদের শত্রুদের মুখোমুখি হতে এবং পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও আমরা একই কাজ করতে পারি। আমরা সিংহ। গর্জনকারী সিংহ। এবং যারা অতীতে ইসরায়েলের কণ্ঠস্বর শোনেনি তারা তা শুনবে, এবং এটি মিথ্যা বলে না।’
প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষকে এগিয়ে রেখে তার সমর্থকদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টার অভিযোগ করেন। তবে আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু তার দলের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে লোক দেখানো সাহস প্রদর্শন করছেন। বিশারা বলেন, ‘তিনি ইসরায়েলের একক বৃহত্তম দলের শীর্ষে রয়েছেন কিন্তু জয়ী জোট গঠনের জন্য তা যথেষ্ট নয় যা আমরা গত চার বা পাঁচ ঘণ্টা ধরে বলে আসছি।’
মারওয়ান বিশারা আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে তিনি এমন এক ধরণের সাফল্য প্রজেক্ট করার চেষ্টা করছেন যা তার প্রাপ্য নয়। প্রথমত, কারণ তিনি জোট গঠন করতে পারবেন না, এবং দ্বিতীয়ত, তিনি যে ইসরায়েলের বৃহত্তম দল এই ধারণাটি ২০০৯ সালের পর লিকুদ দলের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার সত্যতাকে আড়াল করে।’
সূত্র: আল-জাজিরা