ইসরায়েলে সরকার গঠনে কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির কিংবা তাঁর বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই শিবিরের কেউই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না বলে প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচনের পর ভোট গণনার প্রাথমিক হিসাব ও বুথফেরত জরিপের ফল হালনাগাদ করা হচ্ছে। এসব ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুপন্থী ও তাঁর বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে নেই।

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ইসরায়েলিদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেও ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। বুথফেরত জরিপে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পরবর্তী নেসেটে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নেসেট হলো ইসরায়েলের পার্লামেন্ট।

তবে সরকার গঠনের সমীকরণে এসব দলের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনের দুই পক্ষের নেতারাই জানিয়েছেন, তাঁরা অ-জায়নবাদী বা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন কিংবা তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার চালাতে আগ্রহী নন।

কীভাবে গঠিত হবে নতুন সরকার?

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। যাঁর নেতৃত্বে পার্লামেন্টে আস্থাভোটে জয়ী হওয়ার মতো জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে হবে, প্রেসিডেন্ট তাঁকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।

দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই নেতাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষি করে জোট গঠন করতে হবে। এরপর পার্লামেন্টে আস্থাভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই শিবিরের জন্যই জোট গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোন দল কার সঙ্গে জোট করবে, কারা অন্য পক্ষকে সমর্থন দেবে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এসব বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

সরকার গঠনে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন

বুথফেরত জরিপের ফল থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া গেলেও তা চূড়ান্ত ফল নয়। সব ভোটের আনুষ্ঠানিক গণনা শেষ হওয়ার পরই নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এরপর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, তা নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ফলে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনো বেশ জটিল। চূড়ান্ত ফলাফল, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা এবং জোট গঠনের আলোচনা—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী সরকার কোন পথে এগোবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত