নেতানিয়াহুর কী পতন ঘটছে?

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম

ইসরায়েলে নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে কী না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বুথফেরত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর দলের গত নির্বাচনের চেয়ে খারাপ ফলাফলের আভাস দিচ্ছে। গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে নতুন সরকার গঠন করতে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিডিওন রাহাতের মতে, নেতানিয়াহুর সমর্থনের তিনটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে—অতি-রক্ষণশীল ইহুদি গোষ্ঠী, কট্টর ডানপন্থিরা এবং তার ব্যক্তিগত সমর্থকেরা। অতি-রক্ষণশীলদের একটি অংশ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সরকারের সময়ে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের মতো ডানপন্থীদের লক্ষ্যও এগিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কী পতন ঘটছে?

রাহাতের মতে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে পরিচয়ভিত্তিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা সব সময় ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে না। নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা মনে করেন, দেশটির প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো তার বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ৭ অক্টোবরের হামলার ব্যর্থতার জন্য এককভাবে তাকে দায়ী করা যায় না।

তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের গত চার বছরের নীতি নিয়ে অসন্তোষও বেড়েছে। বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগকে অনেকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকী হিসেবে দেখছেন। সেনাবাহিনীতে অতি-রক্ষণশীলদের নিয়োগের বিষয়েও অগ্রগতি না থাকায় সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের রাজনৈতিক অবস্থানও বিতর্ক তৈরি করেছে।

১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে বর্তমান ফলাফলে দলটির এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অবশ্য ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি। লিকুদ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও অন্য ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতে পারেন।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত