ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শীত মৌসুমে পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কমাতে নতুন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। বুধবার ঘোষিত এ উদ্যোগের আওতায় দেশটির ২ কোটি পরিবারকে ১০০ পাউন্ড করে জ্বালানি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ওপর মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) ছাড়ও জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর জন হিলি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পারিবারিক ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নতুন পদক্ষেপগুলো পরিবারগুলোকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি জানি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি বিলের বৃদ্ধি মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।” এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
হিলির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারের অনেক ওপরে উঠেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের দামও প্রায় তিন গুণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে যুক্তরাজ্যের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়—দুটিই চাপে পড়ছে।
কী সুবিধা পাবেন পরিবারগুলো?
সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—
১০০ পাউন্ড জ্বালানি সহায়তা: কাউন্সিল ট্যাক্সের এ থেকে ডি ব্যান্ডের আওতাভুক্ত ২ কোটি পরিবারকে এ অর্থ দেওয়া হবে।
বিদ্যুতের ভ্যাটে ছাড়: বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট কমানোর সুবিধা জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
বার্ষিক ব্যয়ে সাশ্রয়: ভ্যাটের ছাড় বাড়ানোর ফলে বার্ষিক মূল্যসীমার হিসাবে পরিবারপ্রতি প্রায় ৫০ পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে হিলি জানিয়েছেন।
হিলি বলেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে সরকার তার আর্থিক সক্ষমতার একটি অংশ ব্যবহার করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং পরিবারগুলোর ব্যয়ের ওপর চাপ কমানো।
তবে এসব সহায়তা জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ দূর করবে না। বরং বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ সাময়িকভাবে সামাল দিতে পরিবারগুলোকে সহায়তা করবে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে পড়তে পারে। ফলে জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা ব্রিটিশ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।