ইরানের যুদ্ধে কমেছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি: ওবামা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রভাব বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেন।

ওবামা বলেন, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ও সামরিক ঘাঁটিগুলো হামলার শিকার হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন নাগরিকেরা, আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ।

তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ কেমন চলছে? আমাদের মিত্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকেরা নিহত হয়েছেন। কয়েক শ আমেরিকান আহত হয়েছেন।” ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওবামা বলেন, এতে দেশটি আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমিয়ে ফেলেছি, যা আমাদের আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।”

ওবামার বক্তব্যের মূল উদ্বেগ হলো, চলমান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তবে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ঠিক কতটা কমেছে, কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় মজুত করতে কত সময় লাগবে—এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।


হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ


বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওবামা বলেন, “এখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মতো জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।

এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

 

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত