হাইতিতে নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে ২ হাজার সেনা মোতায়েন

হাইতিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া চার নাগরিককে উদ্ধারে ২ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে এল সালভাদর। দেশটির প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি হাইতিতে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে চলমান নিরাপত্তা অভিযানেও সহায়তা করবে এল সালভাদরের সেনারা। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থনে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নিখোঁজ চারজন জাতিসংঘের সমর্থনে পরিচালিত গ্যাংবিরোধী সংস্থা ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের’ সদস্য ছিলেন।

তারা বিমানবাহিনীর টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। একটি সাঁজোয়া যানে করে ঘাঁটিতে ফেরার পথে হাইতির ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হন তারা। এলাকাটি বর্তমানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হাইতির কর্তৃপক্ষ চারটি মৃতদেহ বিশেষ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, মৃতদেহগুলো নিখোঁজ চারজনের। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলোর সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এল সালভাদর ও হাইতির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে জানিয়েছেন, হাইতির কর্তৃপক্ষের দেওয়া চারটি মৃতদেহের একটি শিশুর এবং অন্যটির পরনে ছিল ভিন্ন একটি দেশের সামরিক পোশাক। তাই মৃতদেহগুলো নিখোঁজ চার এল সালভাদর নাগরিকের কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বুকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাইতির সশস্ত্র গ্যাংগুলোকে হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, নিখোঁজ এল সালভাদর নাগরিকদের মুক্তি না দিলে হাইতিতে তার দেশেও গ্যাং দমনে নেওয়া পদক্ষেপের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। গত বছরের অক্টোবরে হাইতিতে ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের’ (জিএসএফ) ক্ষমতা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। তবে গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে অভিযান চালাতে বহুজাতিক বাহিনীকে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাইতিতে গ্যাং সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গ্যাংগুলো দেশটির রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। বছরের পর বছর ধরে গ্যাং সহিংসতায় বিপর্যস্ত হাইতির পরিস্থিতি ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েস হত্যাকাণ্ডের পর আরো অবনতি হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর দেশটিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা সশস্ত্র গ্যাংগুলোর প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখে।