নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ

৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন দফায় হামলা!

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সকালে দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এদিকে ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। এমএসএনওডব্লিউর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এ তথ্যের জন্য আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হয়েছে।

পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের এক বা দুটি স্থাপনা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে। এগুলো ধ্বংস করতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো এক বা দুটি স্থাপনার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সেটি করতে ১০ মিনিটের বেশি লাগবে না।’

এ সময় তিনি ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ওই স্থাপনায় হামলা চালায়নি। ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তাঁর দাবি, ইরানকে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য মনে হয় না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য হামলা স্বল্পস্থায়ী হলেও তা হবে তীব্র। তবে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। শনিবার দোহায় ইরানি আলোচকরা কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনার বিষয়ে অবহিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এর আগে শুক্রবার তেহরানে ইরানি ও কাতারি প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে।

ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।