যুদ্ধ এড়াতে গোপনে কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চরম উত্তেজনার মধ্যেও একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে পর্দা আড়ালে সক্রিয় রয়েছে মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কঠোর বার্তার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

কাতারের উদ্যোগে মধ্যস্থতা চলায় উভয় দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ আশা জেগেছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে তারা চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক, তবে যেকোনো হামলার বিপরীতে সামরিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা ইতিবাচক বললেও ইরানি কর্তৃপক্ষের বিশ্বস্ততা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি আঘাত এলে তার জবাব শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাশাপাশি তিনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশও দিয়েছেন।

কূটনৈতিক এই যোগাযোগের ফলে হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার প্রস্তাবিত সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে এনেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই ছাড় পাওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় আলোচনার গতি কিছুটা ধীর।

এদিকে, সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির একটি এলএনজিবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলো।