'ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে উদ্বেগ অথচ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় নীরব কেন গ্রোসি'

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নীরব থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সমালোচনা করেছে ভিয়েনায় অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন। তেহরানের অভিযোগ, গ্রোসি ইরানের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের মিশন বলেছে, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, অথচ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার বিষয়ে নীরব থাকেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ আইএইএর তত্ত্বাবধানের আওতায় রয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক নিজেও জানেন, ইরানের প্রতিটি গ্রাম পারমাণবিক উপকরণের হিসাব ও নজরদারি সংস্থাটির কাছে রয়েছে।

ইরানের কূটনৈতিক মিশনের দাবি, আইএইএর নিজস্ব প্রতিবেদনেও ইরানের পারমাণবিক উপকরণের কোনো অংশ অনঘোষিত কাজে সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গ্রোসি জানেন, তাঁর নিজের প্রতিবেদনগুলোতে এসব উপকরণের এক গ্রামও অনঘোষিত কাজে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য কখনো নথিভুক্ত হয়নি।’

আইএইএর প্রধান হিসেবে গ্রোসির ভূমিকা নিয়ে ইরানের আপত্তি নতুন নয়। জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পর তাঁর নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আইএইএর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় গ্রোসির কর্মকাণ্ড তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বাঘাইয়ের ভাষ্য, গ্রোসি স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় যে ক্ষতি হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। জাতিসংঘের মহাসচিব হতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁর কাছ থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করবে।

আইএইএর বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংস্থাটির কাছে থাকা গোপন পারমাণবিক তথ্যের নিরাপত্তা। তেহরানের দাবি, সংস্থাটি ইরানের সংবেদনশীল তথ্য ইসরায়েলের কাছে প্রকাশ করেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব তথ্যের মধ্যে দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও ছিল। পরে ওই বিজ্ঞানীদের কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

তেহরান আরও অভিযোগ করেছে, আইএইএর প্রতিবেদনগুলোকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পক্ষে রাজনৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রেও সংস্থাটির প্রতিবেদনকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে আইএইএ বা গ্রোসির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে কোনো পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।