কয়েক দশক ধরে ইরানের সম্পদ শোষণের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: খামেনি 

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধের ইতিহাস তুলে ধরে মোজতবা খামেনি ১৯৫৩ সালের আগস্টে ইরানে সংঘটিত অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের জাতীয় সম্পদ, বিশেষ করে তেলসম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আগে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পদ শোষণের চেষ্টা করেছে। সে সময় দেশটিতে সাভাক গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী আন্দোলন দমনে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করেছিল ওয়াশিংটন।

ইসলামি বিপ্লবের পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের সমর্থন, সাদ্দাম হোসেনের ইরাকের সঙ্গে ১৯৮০-১৯৮৮ সালের যুদ্ধে বাগদাদকে সহযোগিতা, ইরানের বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া ইরানে দাঙ্গা ও অস্থিরতা উসকে দেওয়া, কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা এবং বিভিন্ন দেশে ইরানের সম্পদ জব্দ করার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি।

মোজতবা খামেনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের সরাসরি সামরিক আগ্রাসনে ইরানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিকেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

ইরানকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল বাস্তবায়নে শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, জনগণের জীবনমান উন্নয়নকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও জনগণের সেবা, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং বস্তুগত ও আত্মিক কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের রয়েছে। মানুষের জীবিকা, স্বাচ্ছন্দ্য, উন্নয়ন, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

দেশটির ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। হতাশা ও অসম্ভবের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জ্ঞান, নৈতিকতা, দক্ষতা, দৃঢ়তা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান তাদের।

বার্তার শেষাংশে মোজতবা খামেনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহর রহমত ও ইমাম মাহদির দোয়ায় ইরানি জনগণ শিগগিরই বিজয়, সমৃদ্ধি ও সর্বাত্মক অগ্রগতি অর্জন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের পতন আরও ত্বরান্বিত হবে।

সূত্র: প্রেস টিভি

এমইউ
আরও পড়ুন