কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে ট্রাম্প কী সত্যিই এখন ‘খোঁড়া হাঁস’?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণের ওপর প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ তাঁকে দ্বিতীয় মেয়াদের ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন না। ট্রাম্পের হাতেও এখনো রয়েছে নির্বাহী আদেশ জারি, আইনসভায় পাস হওয়া বিলে ভেটো দেওয়া, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কমতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।

‘লেম ডাক’ বা আক্ষরিক অর্থে ‘খোঁড়া হাঁস’ বলতে এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকে বোঝায়, যাঁর পদে থাকার সময় বাকি থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা কমে আসে।

সাধারণত নির্বাচনে উত্তরসূরি নির্ধারিত হওয়ার পর দায়িত্ব ছাড়ার আগের সময়কে প্রেসিডেন্টের ‘লেম ডাক’ পর্ব বলা হয়। তবে কোনো নেতা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনসভায় নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ হারালে বা রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তাঁর ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহার করা হয়।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ এখনো প্রায় দুই বছরের বেশি সময় তাঁর হাতে রয়েছে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারানোয় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

নির্বাচনের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, তিনি নিজে প্রার্থী না থাকায় রিপাবলিকানরা হেরেছে। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলটি বিপুল ব্যবধানে জিতত বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা বললেও তাদের প্রস্তাবিত কিছু আইন আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।