ইসরাইলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও ক্ষমতা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। উল্টো নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’কে ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নেতানিয়াহুর এই বিতর্কিত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা একে সরাসরি ক্ষমতা দখলের ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনির নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি ভোটারদের ওপর একটি বিশেষ তদন্ত চালানো হচ্ছে। এতে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ, ঘুষ ও জালিয়াতির মতো অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সমালোচকদের মতে, মূলত ফিলিস্তিনিপন্থী দল ‘রা’আম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়ায় তাদের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই তদন্ত সাজানো হয়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতেই নেতানিয়াহু গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি মিডল ইস্ট আইয়ের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি একাধিক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে শিন বেত। তবে এই তৎপরতার পেছনে কোনো বৈধ পরোয়ানা বা শক্তিশালী প্রমাণ নেই বলে দাবি বিরোধী রাজনীতিকদের।
ইসরাইলের ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ এবং বিরোধী জোট নেতা গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা সংস্থার অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস ও নির্বাচনের ফল চুরির চেষ্টা করছেন।
সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমোস হেরেলও এই পরিস্থিতিকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী ও তার অনুসারীরা মিলে ক্ষমতা ধরে রাখতে পরিকল্পিত অভ্যুত্থানের দিকে হাঁটছেন।
যদিও ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে নির্বাচনের ফল হস্তান্তর করেছে এবং নির্বাচনী জালিয়াতির সব অভিযোগ নাকচ করেছে, তা সত্ত্বেও শিন বেতের তদন্ত বন্ধ হয়নি।
তবে শিন বেতের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচিত হাজারেরও বেশি অভিযোগের একটিতেও সত্যতা পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর জোটের হার সুনিশ্চিত জানার পরেই তড়িঘড়ি করে এসব ভিত্তিহীন তদন্ত শুরু করা হয়।
গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান ডেভিড জিনি কট্টর ডানপন্থী এবং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থে শিন বেতকে ব্যবহার করায় সংস্থাটির প্রতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই