ইসরায়েল কী শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে ইসরায়েলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর সরকারের নিরাপত্তা বিবেচনা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথকে জটিল করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলেছে। ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করতে চায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ইসরায়েলের জন্য সামরিক সহায়তা সীমিত করা বা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

তবে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়লেই নেতানিয়াহু ইরান প্রশ্নে অবস্থান পরিবর্তন করবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। গাজা, লেবানন ও অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এক ধাক্কায় শেষ হবে না। কারণ এই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কয়েকটি আলাদা সংকট।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য সমঝোতা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে সংঘাত এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

সিএফআরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ইরান যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত ও শুনানি করতে পারে এবং সামরিক অভিযান বন্ধে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সমর্থনও প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ী শান্তিতে রূপ নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী চাপ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে তিনি অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। তৃতীয়ত, ইরান বা ইসরায়েলের কোনো পদক্ষেপ কিংবা আলোচনার ব্যর্থতা নতুন সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির রাজনৈতিক মূল্য বাড়িয়েছে, কিন্তু তাঁর সামরিক বিকল্প বন্ধ করেনি। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের অর্থায়ন, তদারকি ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে নতুন বাধা তৈরি করবে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের জন্য শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা প্রয়োজন।

সুতরাং, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ইরান যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ থামার নিশ্চয়তা নয়। আপাতত সবচেয়ে বাস্তবসম্মত চিত্র হলো—কূটনৈতিক আলোচনা চলবে, অর্থনৈতিক চাপ বজায় থাকবে এবং সামরিক বিকল্পও টেবিলে থাকবে। এই তিন ধারার মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন