ব্যাংক কেলেঙ্কারির মুখে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ এএম

তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারির মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। দেশটির প্রভাবশালী ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো’ দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।

প্যারাগুয়ের উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। হঠাৎ ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কোটি মানুষ। তারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ লেনদেন করতে পারছেন না, যা দেশে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

সান্তিয়াগো পেনা জানান, দেশের সামাজিক শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষার স্বার্থেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আইন অনুযায়ী তাঁর এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হতে সিনেটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর দেশটির ক্ষমতা দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিনেট অধিবেশন শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন। ফলে প্যারাগুয়েতে একটি বড় ধরণের প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে যাচ্ছে।

ব্যাংক ধসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যর্থতা ও কর্মকর্তাদের অনিয়মকে দায়ী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত আট ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ও তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে বিরোধীদের অভিশংসন প্রস্তাবের হুমকি এবং রাজপথে সাধারণ মানুষের টানা বিক্ষোভের কারণে পেঁনার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। নিজ দলের রক্ষণশীল নেতাদের সমর্থন হারিয়ে তিনি পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এর ফলেই পদত্যাগ ছাড়া তাঁর সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

সান্তিয়াগো পেনা সাবেক অর্থনীতিবিদ হওয়ায় উয়েনো ব্যাংকের মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'গ্রুপো ভাসকেজ'-এর সাথে তাঁর পুরোনো ব্যবসায়িক যোগসূত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পেনশন তহবিলের টাকা অপব্যবহার করে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

যদিও প্রেসিডেন্ট পেনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক সমস্যা হিসেবে দাবি করেছেন। তা সত্ত্বেও সরকারি আমানতের প্রায় ৮৫ কোটি ডলার ঝুঁকিতে পড়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে প্রশাসন।


সূত্র: রয়টার্স

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত