ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত ৩

জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতন, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইরানের সাধারণ মানুষ। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো লোরদেগান, কুহদাশত এবং ইসফাহান প্রদেশে হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস ও মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের লোরদেগান শহরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে একজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে নিহতের পরিচয় নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুহদাশতে তাদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী 'বাসিজ'-এর একজন সদস্য বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা হেংগাওয়ের দাবি, নিহত ব্যক্তি আসলে একজন সাধারণ বিক্ষোভকারী ছিলেন, যিনি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও। মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে গত বুধবার এক বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের মারভদাশত শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। হামেদান, কেরমানশাহ ও খুজেস্তান প্রদেশে অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাকটিভিস্ট সংবাদমাধ্যমগুলো।

ইরানের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়। তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। একই বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ৪২.৫ শতাংশে পৌঁছায়। পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধ ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষ এখন রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।