রেকর্ড ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন: নেপথ্যে কী

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কমেছে। ফলে গত বুধবারের ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মূল্যবান এই ধাতুর দাম অনেকটা নিচে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর আগের দিন বুধবার সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।

একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৯০ দশমিক ১০ ডলারে স্থির হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তাপ কমেছে। এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সংযুক্ত করার প্রস্তাব এবং শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা থেকে তিনি সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডেনিশ ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ সমাধানের চুক্তি প্রস্তাব আসায় ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমেছে।

এএনজেড (ANZ)-এর পণ্য কৌশলবিদ সোনি কুমারী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। এর ফলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল (Safe-haven) হিসেবে সোনার ওপর যে চাপ ছিল তা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।’

সোনার দাম কমার পেছনে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও বড় কারণ। শুল্ক পুনর্বহালের খবরে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ওয়াল স্ট্রিট সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টের বাধার বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের মনে প্রভাব ফেলেছে।

ফেড আগামী জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণত কম সুদের হারে সোনা ভালো পারফর্ম করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলারের শক্তি সোনার বাজারকে কিছুটা নিম্নমুখী করেছে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ওঠানামা করছে। স্পট সিলভার ৯২ দশমিক ২৭ ডলারে স্থিতিশীল থাকলেও প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

DR/AHA
আরও পড়ুন