যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে গোপন সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। নতুন প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে বিষয়টি নজরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরান একটি সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনায় নতুন করে নির্মিত একটি ভবনের ওপর কংক্রিটের সুরক্ষা ঢাল তৈরি করে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের হামলার পর ওই স্থানে দ্রুত পুনর্গঠন ও সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দেশটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স ইরানের সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর একটি। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দুই দশকের বেশি আগে এখানে পারমাণবিক বিস্ফোরণ-সম্পর্কিত পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল পারচিনে হামলা চালায়। হামলার আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবিতে একটি আয়তাকার ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং পরবর্তী সময়ে পুনর্গঠনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক ছবিতে নতুন কাঠামোর কঙ্কাল এবং তার ওপর ধাতব ছাদ দেখা গেলেও, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা আর দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কংক্রিট দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর সাইন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) জানিয়েছে, তারা পারচিনের ‘তালেগান-২’ নামে চিহ্নিত স্থাপনায় একটি ‘কংক্রিট সারকোফাগাস’ নির্মাণের অগ্রগতি লক্ষ্য করেছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড আলব্রাইট বলেন, নতুন স্থাপনাটি দ্রুত মাটির নিচে বাঙ্কারে রূপ নিচ্ছে, যা আকাশপথে হামলা থেকে সুরক্ষা বাড়াবে।
স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় দুটি টানেল প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ইসফাহান ইরানের ৩টি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের একটি। এ স্থাপনায় গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়।
এ ছাড়া নাতানজের কাছাকাছি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত আরেকটি টানেল কমপ্লেক্সের দুটি প্রবেশপথ শক্তিশালী ও প্রতিরক্ষামূলকভাবে মজবুত করার কাজ চলছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গত বছর ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে যোগ দিয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুই পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সোম ও মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে মহড়া চালায়। বুধবার তেহরান রাশিয়ার সঙ্গে ওমান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়ার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একটি বহর ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় একটি রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালে লিখেছেন, ইরান চুক্তিতে না এলে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি ঘাঁটি ব্যবহার করা হতে পারে।