নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ট্রাম্পের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে রাজি ইরান

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে নিজেদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বড় ধরনের আপস করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।

মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আন্তরিকতা দেখায় তবে ইরান পরমাণু ইস্যুতে নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এর বিনিময়ে ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলতে রাজি হতে পারে। তবে শর্ত একটাই- ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নিতে হবে।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওমানে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাভানচি জানান, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাতে চায়, যা উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে।

পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসলেও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। রাভানচি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ (Zero Enrichment) নীতি এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই। ইরান সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করবে না, তবে তার মাত্রা ও মজুত নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের হাতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি। আসন্ন জেনেভা আলোচনায় ইরানের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এএফপি।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত