ইরানে সম্ভাব্য হামলার সময়সূচি নিয়ে আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প 

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেন, হামলা চালানো হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন—সামরিক বাহিনী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আলোচনা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষেই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। হোয়াইট হাউস উত্তেজনার ঝুঁকি এবং সংযম প্রদর্শনের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি বিবেচনা করছে।

একাধিক কর্মকর্তার মতে, আগামী তিন দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযানে অগ্রসর হলে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সম্পদ ও জনবল স্থানান্তর করা পেন্টাগনের নিয়মিত প্রক্রিয়া।

সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ করবেন।

বুধবার হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি উপস্থাপন করা যেতে পারে, তবে কূটনীতি সবসময়ই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।

সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রশাসন 'অত্যন্ত সফল একটি অভিযান' পরিচালনা করেছিল।

তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোই ইরানের জন্য অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সিবিএস জানায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার যুদ্ধজাহাজবহর ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে রয়েছে। দ্বিতীয় রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও' মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।

মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব ।

মঙ্গলবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি ও মার্কিন আলোচকরা বৈঠক করেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বুধবার লেভিট বলেন, 'কিছু বিষয়ে আমরা এখনো বেশ দূরে অবস্থান করছি।'

গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুতর ক্ষতি হয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করে—যা অস্ত্রমানের মাত্রা থেকে প্রযুক্তিগতভাবে অল্প দূরে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পারমাণবিক বোমা না থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরানই এ পর্যায় পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করেছে।

AHA
আরও পড়ুন