ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ভৌগোলিকভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’ (Flightradar24)-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের আকাশপথ প্রায় পুরোপুরি ফাঁকা। যেখানে প্রতিদিন ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার সংযোগকারী হাজার হাজার বিমান উড়ত, সেখানে এখন যেন একটি ‘বিরাট গর্ত’ তৈরি হয়েছে।
এয়ারলাইন্সগুলোর অবস্থা
এমিরেটস: দুবাই ভিত্তিক এই এয়ারলাইন্সটি আগামী ৭ মার্চ রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত তাদের সব শিডিউল ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ইতিহাদ: আবুধাবি থেকে ইতিহাদের সব ফ্লাইট ৬ মার্চ সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
কাতার এয়ারওয়েজ: কাতারের আকাশপথ বন্ধ থাকায় দোহাগামী ও দোহা থেকে সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত।
লুফথানসা: জার্মান এই এয়ারলাইন্সটি দুবাই, তেল আবিব, বৈরুত, আম্মান ও তেহরানে ৮ মার্চ পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের নাগরিকদের ‘DEPART NOW’ বা এখনই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার তাগিদ দিয়েছে। বুধবার আমেরিকানদের নিয়ে প্রথম একটি চার্টার ফ্লাইট অঞ্চলটি ছেড়েছে। কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও তাদের নাগরিকদের একই ধরণের সতর্কতা দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি সামরিক বিমান এবং কনস্যুলার টিম মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডা তাদের নাগরিকদের স্থলপথে ইসরায়েল থেকে মিশরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।
আকাশপথ বন্ধ থাকায় এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটগুলো এখন আফগানিস্তান অথবা সৌদি আরব ও ওমান হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাচ্ছে। এতে ফ্লাইটের সময় বাড়ার পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ায় টিকিটের দামও আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
কেবল আকাশপথ নয়, সমুদ্রপথেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। দুবাই ও দোহা বন্দরে কয়েক হাজার পর্যটক নিয়ে ‘মেইন শিফ ৫’ এবং ‘এমএসসি ইউরিবিয়া’র মতো প্রমোদতরিগুলো আটকে আছে। এয়ারলাইন্সগুলো এখন আদি তারিখের ভিত্তিতে আটকা পড়া যাত্রীদের প্রত্যাবাসনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।