উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া নতুন ৫ হাজার টনের শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার থেকে ‘কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল’ (Strategic Cruise Missile) পরীক্ষা তদারকি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার পথে এটি একটি বড় মাইলফলক।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) জানায়, বুধবার (৪ মার্চ) নাম্পো শিপইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় কিম জং উন ‘চোয়ে হিউন’ নামের একটি নতুন নৌ-ডেস্ট্রয়ার থেকে সমুদ্র-থেকে-স্থলে আঘাত হানতে সক্ষম মিসাইলটির সফল উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। কিম এই যুদ্ধজাহাজটিকে দেশের ‘সামুদ্রিক প্রতিরক্ষার নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কিম জং উন বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীর পানির ওপর ও নিচে আক্রমণের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, এই সাফল্য দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনবে, যা গত অর্ধশতাব্দীতে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া যখন কোনো অস্ত্রকে ‘কৌশলগত’ (Strategic) বলে উল্লেখ করে, তখন এর মাধ্যমে সাধারণত পরমাণু অস্ত্র বহনের সক্ষমতাকে ইঙ্গিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর কোরিয়ার এই নৌ আধুনিকায়ন কর্মসূচি একটি বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তখন এই একই শ্রেণির একটি ডেস্ট্রয়ার পানিতে ভাসানোর সময় উল্টে গিয়েছিল, যা কিম নিজে সশরীরে উপস্থিত থেকে দেখেছিলেন। সেই ব্যর্থতাকে কিম তখন ‘অপরাধমূলক কাজ’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমান এই সফল পরীক্ষাকে সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিম জং উন তার দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চাপ মোকাবিলায় সামরিক শক্তির উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।