যুদ্ধে পাশে থাকায় পাকিস্তানের প্রতি ইরানের কৃতজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক বিশেষ বার্তায় এই ধন্যবাদ জানান।

পাক-ইরান বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) উর্দু ভাষায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বার্তাটি পোস্ট করেছেন।

আব্বাস আরাগচি তার বার্তায় বলেন, ‘মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং এ দেশের জনগণের প্রতি সংহতি ও দৃঢ় সমর্থন দেওয়ায় পাকিস্তানের সরকার ও জনগণকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উর্দু ভাষায় এই বার্তা প্রদান পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের মন জয়ের একটি বিশেষ কৌশল।

এদিকে, কেবল মৌখিক ধন্যবাদ নয় বরং কাজের মাধ্যমেও পাকিস্তানের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে একটি পাকিস্তানি বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। যেখানে অন্যান্য দেশের জাহাজের ওপর কড়াকড়ি চলছে, সেখানে পাকিস্তানের জন্য এই ছাড় দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার বড় প্রমাণ।

পাকিস্তান একদিকে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে তেহরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রক্ষা করছে। গত ১২ মার্চ পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে রিয়াদ যাওয়ার আগেই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন। এছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে চীন ও সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।