তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ইসরায়েলি হামলার শঙ্কা

ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই বিস্ফোরণগুলো এমন এক সময়ে ঘটলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোববার (২২ মার্চ) ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানি যুদ্ধ ব্লগার ‘ভাহিদ অনলাইন’-এর তথ্যমতে, তেহরানের পারদিস এবং পার্শ্ববর্তী শহর দামাভান্দ এলাকায় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ‘মামলেকেটে’ নামক অপর একটি ব্লগার গ্রুপ জানিয়েছে, দামাভান্দের কাছে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে যা জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, তেহরানে নতুন করে ব্যাপক হামলার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। তাদের এই ঘোষণার কিছু সময় পরই এই রহস্যজনক ও ভয়াবহ বিস্ফোরণগুলো ঘটে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী নির্দিষ্ট কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তেহরানের উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষই একে অপরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন এক বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম। ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। পাল্টা জবাবে ইরানও হুমকি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তাদের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র: আলজাজিরা