ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান ও স্থল হামলার মুখে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় বসতে সাফ মানা করে দিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির প্রধান নাঈম কাসেম জানিয়েছেন, বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণের মধ্যে আলোচনায় বসা মানেই হলো ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’, যা হিজবুল্লাহ কখনোই করবে না।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেও মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। হামলার পরপরই ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল জুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া অন্তত ৬টি রকেট তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত বুধবার তারা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একদিনে সর্বোচ্চ ৮০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। বর্তমান যুদ্ধের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রমণের রেকর্ড। লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের অন্তত ৯টি শহরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) স্বীকার করেছে যে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে সম্মুখ যুদ্ধে তাদের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামান্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবাননের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনার এক নজিরবিহীন আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘শত্রুপক্ষের আক্রমণের মুখে আলোচনার যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা আসলে আমাদের ওপর আত্মসমর্পণ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আমরা এই ধরণের আলোচনায় আগ্রহী নই।’