ইরান যুদ্ধে এবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
এর আগে বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় ড্রোন স্পিডবোট ব্যবহার করা হলেও এই প্রথম কোনো সক্রিয় যুদ্ধে এই অস্ত্র মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, চালকবিহীন এই ড্রোন স্পিডবোট একই সঙ্গে নজরদারি এবং ‘কামিকাজি’ হামলায় ব্যবহারযোগ্য। ‘কামিকাজি’ হামলার অর্থ আত্মঘাতী হামলা; অর্থাৎ এই স্পিডবোট আঘাত হানার পর লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি নিজেকেও ধ্বংস করে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধে মোতায়েন করা এই ড্রোন স্পিডবোট তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি গ্লোবাল অটোনোমাস রিকোনায়েন্সেস ক্রাফট বা গার্ক নামের একটি কোম্পানি। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযানে ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ইতোমধ্যে এই বিধ্বসী স্পিডবোট-কে নথিভুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে এক যুগেরও বেশি আগে থেকে। প্রায় কাছাকাছি সময় থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধজাহাজে আঘাত করতে সক্ষম সামুদ্রিক ড্রোনও।
সেই তুলনায় ড্রোন স্পিডবোট এসেছে খানিকটা দেরিতে। ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথমবার কৃষ্ণসাগরে এই ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন।
‘গার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি উদীয়মান সম্ভাবনা ও সক্ষমতার প্রতীক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট এটি ব্যবহার করছে’, রয়টার্সকে বলেন হকিন্স।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ এ ফ্লিটের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: রয়টার্স