মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তাপে আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দফায় দফায় ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা এবং যাত্রী টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) একাধিক ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে সরাসরি আঘাত হানে। এতে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েতি সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বিমানবন্দরের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এই বিস্ফোরণে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ১৫টি সন্দেহভাজন ড্রোন শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কিছু ড্রোন বিমানবন্দর এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়। আল জাজিরা আরবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর দ্বিতীয়বারের মতো কুয়েত সিটিতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত ড্রোনগুলো বারবার প্রধান বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্যবস্তু করায় বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগের হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এবারের আগুনে বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ফ্লাইট অপারেশন পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে কুয়েত সিটিতে নিয়মিত বিরতিতে হামলার সাইরেন বাজা এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সেভেন নিউজ