হোয়াইট হাউসে ফোন করলেই কলার আইডিতে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:২০ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের দাপ্তরিক নম্বরে ফোন করার পর কলার আইডি হিসেবে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত দ্বীপ ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’-এর নাম ভেসে উঠেছে। 

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হোয়াইট হাউসে ফোন করার সময় এই নজিরবিহীন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকরা প্রথম এই অসংগতি লক্ষ্য করেন। তারা জানান, হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে কল করার সময় গুগলের ‘পিক্সেল’ ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কলার আইডি হিসেবে স্পষ্টভাবে ‘Epstein Island’ নামটি প্রদর্শিত হয়। তবে আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো নাম দেখা যায়নি; সেখানে কেবল ফোন নম্বরটি দেখা গেছে।

ওই দিন হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য জানতে ‘স্টাইল’ বিভাগের সাংবাদিকরা যখন হোয়াইট হাউসে ফোন করেন, তখনই বিষয়টি সামনে আসে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে মুখ খোলে টেক জায়ান্ট গুগল। সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল জানান, এটি মূলত গুগল ম্যাপের একটি ‘ফেক এডিট’ বা ভুয়া তথ্য সংযোজনের কারণে ঘটেছে। কোনো দুষ্টু ব্যবহারকারী গুগল ম্যাপসে হোয়াইট হাউসের ঠিকানায় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি যুক্ত করে দিয়েছিলেন। গুগলের কলার আইডি সিস্টেম সেই ভুল তথ্যটি গ্রহণ করায় ফোনে এই নাম ভেসে ওঠে। গুগল জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই ত্রুটিটি সংশোধন করেছে এবং দায়ী ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেছে।

হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা একে কেবল একটি ‘বাহ্যিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বলে উড়িয়ে দিলেও বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নারী ও শিশু পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের কলার আইডিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপের নাম আসা ট্রাম্প প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ম্যাপসে তথ্য যাচাইয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকার বা ট্রলকারীরা প্রায়ই এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। এর আগে বিভিন্ন বড় ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইন নম্বর বদলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

NB/
আরও পড়ুন