যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে শিশুদের মন ভালো করার লড়াই

বাইরে চলছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা, আর ভেতরে চলছে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর লড়াই। পারস্য ক্যালেন্ডারের ঐতিহ্যবাহী ‘প্রকৃতি দিবস’ বা ‘সিজদাহ বেদার’ উপলক্ষে তেহরানের চিলড্রেন’স মেডিকেল সেন্টারে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী উৎসব। যুদ্ধের আতঙ্কে যখন পুরো শহর থমথমে, তখন অসুস্থ শিশুদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এই উদ্যোগ নেন একদল তরুণ চিকিৎসক।

তেহরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সের অধীনস্থ এই হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্নরা নিজেদের পকেট খরচ এবং কিছু অনুদানের টাকায় শিশুদের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গত এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা পড়লেও এই হাসপাতালটি এখন পর্যন্ত নিরাপদ রয়েছে। তবে চারপাশের বোমার বিকট শব্দে শিশুরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাসপাতালের ভেতর বসানো হয়েছিল উৎসবের মেলা। শিশুদের প্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘টয় স্টোরি’র বাজ লাইটইয়ার এবং ‘প টহল’-এর পোশাকে সেজে ডাক্তাররাই নেচে-গেয়ে শিশুদের মাতিয়ে রাখেন। কেউ বল খেলছে, কেউবা মেতেছে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায়। শিশুদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে খেলনা ও খাবারের ব্যাগ।

হাসপাতালের অন্যতম আয়োজক ডা. সামানেহ কাভৌসি বলেন, 'এই কঠিন সময়ে শিশু এবং তাদের পরিবার প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে আছে। আমরা কেবল তাদের সেই উদ্বেগ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি।' অন্য এক চিকিৎসক ডা. জয়নব আলিহাগী জানান, 'যুদ্ধের আগে এখানে প্রায় ৪০০ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল, যা এখন কমে ১০০-এর নিচে নেমেছে। নিরাপত্তার খাতিরে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য শহরের হাসপাতালে সরিয়ে নিয়েছেন।'

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওষুধের কোনো সংকট নেই জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেরাও প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছেন, তবুও মানুষের সেবা করা এবং শিশুদের ব্যথা ভুলিয়ে দেওয়াকে তারা পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করছেন। ইরানের মানুষ যখন পার্কগুলোতে বনভোজন করে ‘সিজদাহ বেদার’ পালন করছে, এই অসুস্থ শিশুরা তখন হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতরেই খুঁজে নিয়েছে এক চিলতে আনন্দ।

উল্লেখ্য, সিজদাহ বেদার হলো পারস্য নববর্ষ বা নওরোজের ১৩তম দিনে পালিত একটি ঐতিহ্যবাহী ইরানি উৎসব, যা প্রকৃতি দিবস বা ‘রূজে তাবিয়াত’ নামেও পরিচিত। ফারসি বছরের প্রথম মাস ফারভারদিনের ১৩ তারিখে, মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সাথে পার্ক, বনভূমি বা পাহাড়ি এলাকায় পিকনিক করে এই দিনটি উদযাপন করে।

সূত্র: আল জাজিরা