ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হোসেন সিমাই সাররাফ জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু না হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো এবং অসামরিক স্থানগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে লাখ লাখ স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ভবন মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইসরাইল এই হামলাগুলোর স্বপক্ষে দাবি করেছে যে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের বাহিনী কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানার পাল্টা জবাব হিসেবে তারাও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে এই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: সিএনএন।