ইরানি কর্তৃপক্ষের ঠিক করে দেওয়া পথ থেকে সরে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে মাইনে ধাক্কা লেগে এক তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে । রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি এ কথা জানিয়েছে। একই সময়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করায় ছয়টি জাহাজ আটক করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানি গণমাধ্যম দেফা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী পারাপারের জন্য নির্ধারিত রুটের বাইরে চলে যাওয়ার পরই ট্যাংকারটি একটি সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করে। নিয়ম ভঙ্গ করা ওই জাহাজকে আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছিল—নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নৌসীমা না মানলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী থাকবে। তবে ট্যাংকারটির নাম, মালিকানা, গন্তব্য কিংবা কোনো হতাহত ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।
পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানি নৌপথ প্রশাসনকে না জানিয়ে অবৈধ পথে হরমুজ প্রণালী পারাপারের চেষ্টা করলে আরও ছয়টি জাহাজ আটক করে আইআরজিসি। এ সব জাহাজ থামানোর জন্য সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং পথ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত যাত্রা আটকে দেওয়া হয়। এর আগের দিন শনিবারও একইভাবে চারটি জাহাজ থামানোর কথা বলেছিল আইআরজিসি।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এর অধীনে ইরান ৬০ দিনের জন্য বিনা শুল্কে নৌপথটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় এবং নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করে দেয়।
তবে ওয়াশিংটন বেআইনি বিকল্প পথ দিয়ে নিজেদের পাহারায় জাহাজ পারাপারে চেষ্টা করছে। ইরান এই পদক্ষেপকে সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক এই নৌপথে নাক গলানো বন্ধ না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে ইরান।