ইরানে নজিরবিহীন হামলা, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যে স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল, সেখানে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে ইরানের দেহদাশত এলাকা। সেখানে অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিধি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুদিন ধরে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল, কারাজ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলার বিষয়ে ইরান এখনো সরাসরি কোনো সমর্থন বা অস্বীকৃতি জানায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা দেশটিকে ভাবিয়ে তুলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি প্রসঙ্গে ইরানিদের অবস্থান বেশ মিশ্র। তেহরানের মতে, তারা গত এক মাস ধরে এ ধরনের হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের কাছে এখন একটি পরিচিত এবং একঘেয়ে বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও বাস্তবে ইরান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যেভাবে একের পর এক আঘাত আসছে, তাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং তেহরান থেকে অবাধ্যতা, প্রতিরোধ এবং সক্ষমতার জোরালো বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের কৌশল হবে 'ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে' বা সমানুপাতিক পাল্টা আঘাত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

সূত্র: আলজাজিরা