হরমুজ দিয়ে যেতে পারবে ইরাকি জাহাজ: ইরান

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে ইরাকি জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরম আলটিমেটামের মধ্যেই তেহরান এই বড় সিদ্ধান্ত জানালো।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দফতর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে ইরান জানিয়েছে, ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ইরাকিদের প্রশংসা করে বলা হয়, ‘আপনারা এমন এক জাতি যারা মার্কিন দখলের ক্ষত বহন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আপনাদের লড়াই শ্রদ্ধার যোগ্য।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারগুলো এখন কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে। এই সহযোগিতার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন।

অন্যদিকে, সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অথবা বড় ধরণের চুক্তিতে আসার জন্য ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে- আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। এরপর তাদের ওপর ‘জাহান্নাম’ (Hell) নেমে আসবে।’

ট্রাম্পের এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা বা আলটিমেটামকে পাত্তাই দিচ্ছে না ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দফতর এক পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি মূলত একটি ‘অসহায়, দিশেহারা ও ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির কাজ।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এই নৌপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘শত্রু দেশগুলোর’ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) জন্য এই পথ আপাতত রুদ্ধই থাকবে।