সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না আসার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি থেমে যায়নি, বরং এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী কাঠামোর মাধ্যমে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং এই সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, আলোচনা ও বার্তা বিনিময় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথে কতটা আন্তরিকভাবে অগ্রসর হতে চায়, তা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে একাধিকবার তাদের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার কাঠামোকেই বিভিন্ন সময়ে দুর্বল করে দিয়েছে, যার ফলে এখন তাদেরই নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে।
তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি এবং পূর্বে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবেই কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, যা এখনো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বহাল রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি ইরানের কাছে 'অযৌক্তিক ও অবাস্তব' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অধিকার ইরান যে কোনো পরিস্থিতিতেই বজায় রাখতে চায়। সূত্র: সিএনএন