যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুধুমাত্র পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ওপর তেহরানের পূর্ণ আস্থা থাকলেও ওয়াশিংটনের ওপর তাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইসলামাবাদের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরণের আলোচনার জন্য আমরা ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নিতে চাই। পাকিস্তানের প্রতি আমাদের গভীর আস্থা রয়েছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের (সেনাপ্রধান) সাহসী মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও জানান, ইরান তাদের এই অবস্থানের কথা ইতোমধ্যেই পাকিস্তান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইরানে বহিরাগত মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তবে এত বড় মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান তার নীতি ও অবস্থানে অটল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কেবল সিভিল বা বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে- এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরণের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তেহরানের একমাত্র লক্ষ্য।
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরান নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘জায়নিস্ট’ শক্তির চাপের মুখে রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা এবং অবিশ্বাসের কারণেই ইরানের কাছে ওয়াশিংটনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।