মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর সমুদ্র-অবরোধ ভেদ করে প্রায় ২২০ মিলিয়ন (২২ কোটি) ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল নিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ (VLCC)। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডটকম' (TankerTrackers.com) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানির মালিকানাধীন 'হিউজ' (HUGE) নামক এই সুপারট্যাঙ্কারটি ১৯ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছে। গত ১৩ এপ্রিল যখন মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে, তখন জাহাজটি ইরানি জলসীমায় অবস্থান করছিল। শনাক্তকরণ এড়াতে গত ২০ মার্চ থেকে জাহাজটির 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' (AIS) বা অবস্থান নির্ণয়কারী যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ট্র্যাকার্স সংস্থাটি জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে জাহাজটিকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে দেখা গিয়েছিল এবং বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালী হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে, অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৯ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে, অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ মার্কিন অবরোধ সফলভাবে লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪১টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই অবরোধের ফলে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে এবং দেশটি তেল রপ্তানি করতে না পেরে তা মজুত করতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের ধারণা, মজুত ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে ইরানের তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে 'হিউজ'-এর মতো বিশালাকার ট্যাঙ্কারের সফল চলাচল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান বিকল্প পথে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।