ইরান তাদের সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাবে কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব এখনো বিশাল। কাতারভিত্তিক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি বিস্তারিত না পড়েই বা এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্রিফিং না নিয়েই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাসগ্রেভ বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান আলোচনার জন্য তাদের আগের দেওয়া একটি পূর্বশর্ত থেকে সরে এসেছে। সেটি হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘দূরবর্তী অবরোধ’ (Distant Blockade) রয়েছে, তা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার দাবিটি তারা শিথিল করেছে।
তবে ইরানের এই নমনীয়তা সত্ত্বেও মৌলিক বিষয়গুলোতে কোনো সমঝোতা হচ্ছে না। মাসগ্রেভ উল্লেখ করেন যে, ইরানি প্রস্তাবে এখনো কিছু বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে -
- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখা।
- নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া।
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বা ‘কন্ট্রোল মেকানিজম’ বজায় রাখা।
পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের মতো দুটি প্রধান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো একে অপরের থেকে “বহু দূরে” অবস্থান করছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের সমস্ত পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে যে বিষয়ে তিনি এখনো পুরোপুরি অনমনীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো ছাড় ছাড়াই ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব চলমান যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার পথে বড় অন্তরায়।