যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় সস্তা বিমান পরিষেবা সংস্থা 'স্পিরিট এয়ারলাইন্স' (Spirit Airlines) আকস্মিকভাবে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গত ২ মে শনিবার ভোরে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার কর্মী।
৩৪ বছর ধরে সেবা দেওয়ার পর স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা অবিলম্বে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার প্রক্রিয়া (orderly wind-down) শুরু করেছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক এই সংস্থাটির শেষ ফ্লাইটটি গত মধ্যরাতে টেক্সাসের ডালাসে অবতরণ করে। এরপর থেকে উজ্জ্বল হলুদ রঙের আর কোনো স্পিরিট বিমান আকাশে দেখা যায়নি।
মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি (Sean Duffy) এক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রীদের সতর্ক করে বলেছেন, যাদের স্পিরিট এয়ারলাইন্সে টিকিট কাটা আছে, তারা বিমানবন্দরে আসবেন না; কারণ আপনাদের সহায়তা করার জন্য সেখানে কেউ থাকবে না। ওর্লান্ডো, ফোর্ট লডারডেল এবং নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টারগুলো এখন ভুতুড়ে জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয়েছে। অনেক যাত্রী বিয়ের অনুষ্ঠান বা পারিবারিক ছুটিতে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে এখন বিপাকে পড়েছেন, কারণ অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেশি।
এদিকে স্পিরিটের এই পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। রিপাবলিকানররা এই পরিস্থিতির জন্য বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করছে। তাদের মতে, ২০২৪ সালে জেটব্লু (JetBlue)-এর সাথে স্পিরিটের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একীভূত হওয়ার চুক্তিটি সরকার আটকে না দিলে আজ এই দশা হতো না। পরিবহন সচিব শন ডাফি ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, ওই চুক্তিটিই পারত স্পিরিটকে বাঁচাতে।
অন্যদিকে, সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম দ্বিগুণ হওয়া এবং ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন নীতিই স্পিরিটের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। তাদের মতে, স্পিরিট আগে থেকেই আর্থিক সংকটে ছিল এবং জেটব্লুর সাথে একীভূত হওয়া গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর হতো বলেই আদালত তা আটকে দিয়েছিল।
এর আগে, গত সপ্তাহে স্পিরিটকে বাঁচাতে মার্কিন সরকার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বেল-আউট (Bailout) পরিকল্পনা করেছিল, যার বিনিময়ে সরকার কোম্পানির ৯০% মালিকানা চেয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির ঋণদাতারা (Creditors) এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উদ্ধার প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। ঋণদাতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাটি আর টিকে থাকার যোগ্য নয়।
১৯৮৩ সালে ডেট্রয়েটে 'চার্টার ওয়ান এয়ারলাইন্স' নামে যাত্রা শুরু করা এই সংস্থাটি মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিল। স্পিরিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আলজাজিরা
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হত্যার ঘটনা ভয়াবহ পর্যায়ে
ইরানের দেওয়া নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে