অধিকৃত পশ্চিম তীরে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ তাণ্ডব এবং ধরপাকড় অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রাতভর চালানো এই অভিযানে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
নাবলুসের দক্ষিণে আল-লুব্বান আশারকিয়া গ্রামে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বসতি স্থাপনকারীদের এই হামলাকে ফিলিস্তিনিরা তাদের উচ্ছেদের একটি পরিকল্পিত অংশ হিসেবে দেখছে।
জেনিনের আল-আসাসা গ্রামে এক অমানবিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশে গ্রামবাসীরা এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে তুলতে বাধ্য হন, যা ওই দিন সকালেই সমাহিত করা হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, প্রথম কবরটি একটি ইসরায়েলি বসতির খুব কাছাকাছি ছিল। পরে মরদেহটি অন্য স্থানে দাফন করতে হয়।
বেথলেহেমের দক্ষিণে সলোমন পুলস এলাকায় বনভোজন করতে আসা একদল ফিলিস্তিনির ওপর ইসরায়েলি বাহিনী স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের এলাকা ত্যাগে বাধ্য করে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ দুইজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের পরিকল্পিত হামলা ও সামরিক শক্তির ব্যবহার ওই অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: আলজাজিরা