পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পর্দার আড়ালে কী ঘটছে, তা নিয়ে দুই পক্ষই মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে এরই মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী আজ ঘোষণা করেছে যে, পুনরায় আক্রান্ত হলে তারা শত্রুপক্ষকে নতুন অস্ত্র, যুদ্ধের নতুন কৌশল এবং সম্পূর্ণ নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে ‘চমকে’ দেবে।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া আজ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে ইরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় চরম সংকটের মুখে পড়বে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং নতুন রণকৌশল শত্রুর যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির মুখপাত্র। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ‘ধৈর্যের সীমা’ ছাড়িয়ে গেছে। এখন থেকে ইরানি কোনো জাহাজে সামান্যতম আক্রমণ চালানো হলেও তার দাঁতভাঙা ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ইরান তাদের স্বার্থ রক্ষায় একটি প্রধান ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
এদিকে, তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সংহতি জানিয়ে রাস্তায় মানুষের ঢল নামলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে হু হু করে বাড়তে থাকা নিত্যপণ্যের দাম এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ইরানিরা।