ইরানে হামলা চালাতে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি! 

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও নিখুঁত ও জোরালো করতে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ভূখণ্ডে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে ইসরায়েল। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) শনিবার (৯ মে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সম্মতিতে ইরাকের নির্জন মরু অঞ্চলে এই ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়। এটি মূলত ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর রসদ সরবরাহ এবং বিশেষ বাহিনীর কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধে কোনো ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত হলে সেটির পাইলটকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সেখানে ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ দলও মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মার্চ মাসের শুরুতে এই গোপন ঘাঁটির অস্তিত্ব প্রায় প্রকাশ হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় এক মেষপালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি সেনারা সন্দেহভাজন এলাকাটিতে তদন্ত করতে গেলে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নিজেদের গোপন আস্তানাটি সুরক্ষিত রাখতে চালানো ওই হামলায় একজন ইরাকি সৈন্য নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরাক সরকার কড়া প্রতিবাদ জানালেও ইসরায়েল বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব ছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, ইরানের ইসফাহানে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই ঘাঁটি থেকেই সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল। তবে মার্কিন বাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে। তবে সেই উদ্ধার অভিযানটি নিরাপদ করতে ওই সময় ইরাকের এই ঘাঁটি থেকেই বিমান সহায়তা দিয়েছিল ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও ইসরায়েলি মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছেন। তবে ইরাকের ভেতর ইসরায়েলের এই গোপন ঘাঁটির খবর প্রকাশ হওয়ায় বাগদাদ ও তেল আবিবের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত